Bangladesh

প্রবাসী বাংলাদেশি বিজ্ঞানী দম্পতিকে সহযোগিতার আশ্বাস সরকারী কর্মকর্তাদের

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি বিজ্ঞানী দম্পতি ড. মইন উদ্দিন সরকার ও ড. আনজুমান সেলীর প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে তেল উৎপাদনের উদ্ভাবনকে বাংলাদেশ ও মানুষের কল্যাণের কাজে ব্যবহারের জন্য সর্বাত্ম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

রাজধানীর কাওরানবাজারে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের পরিচালক (মার্কেটিং) মো. সারওয়ার আলমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ড. মইন উদ্দিন সরকার ও ড. আনজুমান সেলী। এ সময় সারওয়ার আলম বলেন, আপনাদের এ প্লান্ট বাস্তবায়নের জন্য বেশ কিছু জায়গা থেকে অনুমোদন নিতে হবে। আপনারা আবেদন করুন আশা করি অনুমোদন পেয়ে যাবেন। আমাদের অকটেন বাদে বাকী সব জ্বালানীর মানই ভাল। আপনাদের জ্বালানীর নমুনা আমাদের কাছে দিলে তা আমরা নিজস্ব ল্যাবে পরীক্ষা করব।

তিনি আরও বলেন, আপনারা আপনাদের আবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দিন। তারা আমাদের কাছে পাঠাবে। সরকারের অনুমোদন ছাড়া কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আর আমরা ছাড়পত্র না দিলে সরকারও অনুমোদন দেবে না। আপনারা শুরু করুণ, আশা করি সকলেই আপনাদের সহযোগিতা করবে। বাংলাদেশ সকল সম্ভাবনার দেশ।

রাজধানীর নগরভবনে সাক্ষাতের সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) চিফ ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট অফিসার এয়ার কমোডর মো. জাহিদ হোসাইন বিজ্ঞানী দম্পতিদের বলেন, ডিএসসিসিতে ইতিমধ্যে ৫ বছরের বর্জ্য পড়ে আছে। আপনারা যদি কাজ শুরু করেন তাহলে ৫ বছর পর্যন্ত বর্জ্য নিয়ে কোন চিন্তা করতে হবে না। ৫ বছরের বর্জ্য রিজার্ভেই আছে, আর এখনের বর্জ্য তো থাকবেই।

ড. মইন উদ্দিন সরকার বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে জ্বালানী উৎপাদনের পাইলট প্রকল্প শুরু করলেও সেখান থেকে মাসে ২২ লাখ টাকার মত সরকারের মুনাফা হবে। আর আমাদের উৎপাদিত ডিজেলের মান সবচেয়ে ভালো। আমেরিকাতে ডিজেলে সালফারের পরিমান ৫০ পিপিএম, যেখানে বাংলাদেশের ডিজেলে সালফারের পরিমান ৫০০ পিপিএম। অথচ আমাদের উৎপাদিত ডিজেলে সালফারের পরিমান ৫ পিপিএম। এছাড়াও আমাদের উৎপাদিত জ্বালানীতে পরিবেশ দূষিত করার উপাদান গুলোও খুবই কম।

তিনি আরও বলেন, আমরা যদি এই প্লান্ট সফল করতে পারি তাহলে দেশের বাইরে থেকে জ্বালানী তেল তো আমদানি করা লাগবেই না বরং অন্যান্য দেশে জ্বালানী তেল রপ্তানি করা যাবে। আমি যখন বাংলাদেশে এসেছি তখন ভারতের রিলায়েন্স, টাটা; পাকিস্তানের সরফরাজসহ বিশ্বের ২০ দেশ আমাকে নিয়ে কাজ করতে চেয়েছে। কিন্তু আমি চাই আমেরিকার পর এ প্লান্ট বাংলাদেশে করা হোক। ঢাকার উত্তর ও দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনে যে পরিমাণ বর্জ্য আছে তাতে ২৪ লাখ সিলিন্ডার এলপিজি গ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব।

এর আগে, ড. মইন উদ্দিন সরকার ও ড. আনজুমান সেলী বুধবার আমেরিকান অ্যাম্বাসির পিলিটিক্যাল ইকোনোমিক সেকশনের কমার্শিয়াল বিশেষজ্ঞ মাহাদি সিরাত ও ইকোনোমিক কমার্শিয়াল অফিসার জিম টাউনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারাও প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে জ্বালানী তেল উৎপাদনের উদ্ভাবনকে স্বাগত জানান এবং প্রয়োজনীও সকল সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *